একটি আধফোটা ফুল

লিখেছেন – নীলাঞ্জনা অদিতি

মেয়েটি উঠে দাঁড়াতে চাইছে কিন্তু পারছেনা !! প্রচণ্ড কষ্ট হচ্ছে !! সারা শরীরে অসহ্য ব্যাথা !! যন্ত্রণায় যেন বের হতে চাইছে প্রান !! তবু কষ্ট করে উঠে দাঁড়াল মেয়েটি ! সে শুনেছে দেশ নাকি আজ থেকে স্বাধীন !! আজ সবাই খুব আনন্দ করছে !! সে একটু তা দেখতে চায় !! সেও একটু আনন্দ করতে চায় !! কিন্তু বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে পারলনা, পড়ে গেল ধপ করে মাটিতে !! চারিদিক অন্ধকারে ছেয়ে যাচ্ছে !! তবে কি সব কিছু আজ ই শেষ হয়ে যাবে ?

রেনু ! অ্যাই রেনু !! কোথায় গেলি ?উফফ !! মেয়েটাকে নিয়ে আর পারিনা !!

চকিতে ঘাড় ঘোরালো রেনু !! আজ নির্ঘাত মায়ের কাছে বকুনি খেতে হবে !!

“অ্যাই !! তোরা এখন যা !! কাল আসিস” !!

মা- কি রে !! এতক্ষন ধরে ডাকছি ! কথা কানে যাচ্ছে না ?

রেনু- আসলে মা, খেলছিলাম তো , শুনতে পাইনি !

মা- আর খেলতে হবে না !! আজ তোকে দেখতে আসবে !! ছোট খালা সাজিয়ে দেবে !! যা তৈরি হয়ে নে !!

কিছুক্ষণের জন্য স্তম্ভিত হয়ে গেল রেনু !! বিয়ে !! ওর বিয়ে !! লজ্জায় রাঙ্গা হয়ে উঠল ওর মুখ !!

দেশে চারিদিকে অস্থির ভাব ! রেনু দেখছে , তার বাবা লতিফ সাহেব ক’দিন ধরে সারাদিন রেডিও কানে দিয়ে বসে থাকেন ! কারো সাথে দরকার ছাড়া কথা বলেন না !! দেশে নাকি মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়েছে ! রেনুর ভাই রুমি বাড়ির কাউকে না বলে চলে গেছে যুদ্ধে ! রেনুর মা সারাদিন চোখে আঁচল চাপা দিয়ে কাঁদেন !! মিলিটারিরা চারিদিকে আক্রমন করছে ধরে নিয়ে যাচ্ছে মেয়েদের !! একদিন রুমিকে খুঁজতে আসল তারা । সাথে ছিল রাজাকার কাদের মোল্লা !! রুমিকে না পেয়ে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে গেল রেনুকে !! লতিফ সাহেব বাঁচানোর চেষ্টা করতেই নরপশুরা বুলেটে ঝাঁজরা করে দিল বুক !! রেনু নিথর !! মা পাথর হয়ে গেলেন !! মাঝে মাঝে প্রলাপ বকতে থাকেন ” রেনুর বিয়ে !! ৭ দিন পর রেনুর বিয়ে !!

বিজয়ী বীর মুক্তিযোদ্ধারা একটা ক্যাম্প থেকে উদ্ধার করে প্রায় ১০ জন মেয়েকে !! তার মাঝে সেই মেয়েটিও ছিল !! অনেক কষ্টে জ্ঞান ফেরার পর মেয়েটি খালি একটা কথাই বলতে পেরেছিল ” আমার বিয়ে হবে !! বাবা তুমি কোথায় ? তুমি আসবেনা ? ” তারপর সব অন্ধকার !! সব শেষ !!

Leave A Comment Here

comments